সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) ভিসা নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত যে খবর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়েছে, তা “দুরভিসন্ধিমূলক প্রচারণা” হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন আবুধাবিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ। তিনি জানিয়েছেন, এ বিষয়ে আমিরাত সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ দূতাবাস বা দুবাই কনস্যুলেটে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসেনি।
সম্প্রতি ‘ইউএই ভিসা অনলাইন’ নামের একটি ওয়েবসাইটে দাবি করা হয় যে, বাংলাদেশসহ নয়টি দেশকে আমিরাত ২০২৬ সালের ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে। তালিকায় আরও রয়েছে আফগানিস্তান, লিবিয়া, ইয়েমেন, সোমালিয়া, লেবানন, ক্যামেরুন, সুদান ও উগান্ডা। ওয়েবসাইটে বলা হয়, এই দেশগুলোর নাগরিকরা বর্তমানে ইউএই টুরিস্ট ভিসা ও ওয়ার্ক পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, “মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য এমন ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করা হয়ে থাকতে পারে। এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি ঘোষণা বা নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।”
তিনি আরও জানান, “শনিবার ও রবিবার আমিরাতে সরকারি ছুটি থাকায় সরকারি দপ্তরগুলো বন্ধ রয়েছে। সোমবার (কার্যদিবসের প্রথম দিন) আমিরাত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করে বিষয়টি যাচাই করা হবে।”
রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশিদের গুজবে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমিরাতে আমাদের দূতাবাস ও কনস্যুলেট সর্বদা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো পরিবর্তন হলে তা দ্রুত সরকারিভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে।”
বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ১০ থেকে ১২ লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তারা নির্মাণ, সেবা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
কূটনৈতিক মহলের মতে, ভিসা নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত এই খবর যাচাই ছাড়া প্রচার করায় প্রবাসী সমাজে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বাস্তবে বাংলাদেশ ও ইউএইর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বর্তমানে অত্যন্ত ইতিবাচক পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস আশ্বস্ত করেছে যে, ভিসা ও কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কোনো পরিবর্তন হলে তা শুধুমাত্র সরকারি সূত্রেই প্রকাশ করা হবে—তাই প্রবাসীদের গুজব নয়, বরং সরকারি ঘোষণাকেই বিশ্বাস করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
© 2025 NRB. All Rights Reserved.