চেভনিং স্কলারশিপ হলো যুক্তরাজ্য সরকারের Foreign, Commonwealth and Development Office (FCDO) দ্বারা পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক বৃত্তি কর্মসূচি। এই স্কলারশিপের উদ্দেশ্য হলো বিশ্বব্যাপী সম্ভাবনাময় তরুণ নেতাদের যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়া এবং ভবিষ্যতে তাদের নিজ নিজ দেশে নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে সক্ষম করে তোলা।
চেভনিং স্কলারশিপ মূলত এক বছরের মাস্টার্স প্রোগ্রাম করার জন্য দেওয়া হয়।
আপনি যুক্তরাজ্যের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো বিষয়ের ওপর অধ্যয়ন করতে পারেন।
এটি সাধারণত Taught Master’s Program অর্থাৎ ক্লাস-ভিত্তিক পড়াশোনা।
শিক্ষার্থীরা একসাথে সর্বোচ্চ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করতে পারেন, তবে যেকোনো একটিতে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জনপ্রিয় ক্ষেত্রগুলো হলো: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, উন্নয়ন অধ্যয়ন, ব্যবসা, আইন, জনস্বাস্থ্য, শিক্ষা, পরিবেশ, মিডিয়া ইত্যাদি।
চেভনিং বৃত্তির মেয়াদ সাধারণত একটি পূর্ণ শিক্ষাবর্ষ (One Academic Year) — যা সেপ্টেম্বর থেকে পরবর্তী আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হয়।
এই সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীকে কোর্স সম্পন্ন করে দেশে ফিরে যেতে হয়।
এই স্কলারশিপের অন্যতম শর্ত হলো: শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করার পর অন্তত দুই বছর যুক্তরাজ্যের বাইরে (নিজ দেশে) থাকতে হবে।
এটি করা হয় যাতে তারা নিজেদের দেশে ফিরে নেতৃত্ব ও উন্নয়নমূলক কাজে অবদান রাখতে পারেন।
চেভনিং স্কলারশিপ একটি পূর্ণ বৃত্তি (Fully Funded Scholarship)। অর্থাৎ, প্রাপককে পড়াশোনার জন্য কোনো খরচ বহন করতে হয় না। এতে অন্তর্ভুক্ত থাকে—
টিউশন ফি (Tuition Fees): যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ কোর্স ফি চেভনিং কর্তৃপক্ষ পরিশোধ করে।
ভিসা ফি (Visa Cost): স্টুডেন্ট ভিসা করার জন্য যে খরচ লাগে, সেটিও বৃত্তি কাভার করে।
বিমান ভাড়া (Airfare): বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে যাওয়া ও পড়াশোনা শেষে ফিরে আসার বিমান টিকিটের খরচ অন্তর্ভুক্ত।
মাসিক ভাতা (Monthly Stipend): প্রতিমাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ প্রদান করা হয়, যাতে শিক্ষার্থী থাকা-খাওয়া ও জীবনযাপনের খরচ নির্বাহ করতে পারে।
আবাসন ও আগমন ভাতা: যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পর প্রাথমিক স্থাপনার জন্য অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করা হয়।
অন্যান্য সুবিধা: নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট, সাংস্কৃতিক প্রোগ্রাম, ট্রেনিং সেশন ও বিভিন্ন সামাজিক সংযোগ কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে।
চেভনিং স্কলারশিপের আবেদন সাধারণত আগস্টের শেষ বা সেপ্টেম্বরের শুরুতে খোলা হয় এবং নভেম্বরের শুরুতে বন্ধ হয়ে যায়।
আবেদনের ধাপসমূহঃ
Online Application Portal: আবেদন করতে হয় www.chevening.org–এ।
Documents:
একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদপত্র
দুইটি রেফারেন্স লেটার (Recommendation Letter)
পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
Statement of Purpose বা Chevening Essays (Leadership, Networking, Career Plan, Study in UK বিষয়ে চারটি প্রবন্ধ)
Interview Stage:
শর্টলিস্ট হওয়ার পর ব্রিটিশ হাই কমিশন, ঢাকা থেকে সাক্ষাৎকারের (Interview) আহ্বান জানানো হয়।
সাক্ষাৎকার সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে হয়।
Final Selection:
নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম জুন মাসের দিকে ঘোষণা করা হয়।
চেভনিং স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ করতে হয় —
জাতীয়তা: আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতক (Bachelor’s Degree) সম্পন্ন থাকতে হবে।
সাধারণত দ্বিতীয় শ্রেণি (Upper Second Class, অর্থাৎ 2:1 equivalent) ফলাফল থাকা প্রয়োজন।
কর্মঅভিজ্ঞতা: অন্তত দুই বছরের পূর্ণকালীন (Full-time) কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
এই অভিজ্ঞতা চাকরি, ইন্টার্নশিপ, স্বেচ্ছাসেবা—যেকোনো মাধ্যমে অর্জিত হতে পারে।
ইংরেজি দক্ষতা: ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে।
IELTS, TOEFL, PTE বা সমমানের টেস্টের মাধ্যমে প্রমাণ দিতে হয়।
কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ভাষা-দক্ষতার প্রমাণ গ্রহণযোগ্য হয়।
Leadership & Networking Skill: নেতৃত্ব, দল পরিচালনা ও যোগাযোগের অভিজ্ঞতা প্রমাণ করার মতো বাস্তব উদাহরণ দিতে হবে।
দেশে ফেরার প্রতিশ্রুতি: পড়াশোনা শেষ করার পর অন্তত দুই বছর বাংলাদেশে ফিরে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়।
© 2025 NRB. All Rights Reserved.